মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ আরসিসি সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিডিউল অনুযায়ী নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার না করে নিম্নমানের মিশ্রণ তৈরি করছে, ফলে নির্মাণকাজের মান নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ।
নির্মাণ শিডিউল অনুযায়ী, প্রতি ঢালাই মিশ্রণে ১ বস্তা সিমেন্ট, ৪ টুকরি বালু ও ৮ টুকরি খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান “মেসার্স রূপালী এন্টারপ্রাইজ” ১ বস্তা সিমেন্টের সঙ্গে ৮ টুকরি বালু ব্যবহার করছে। এ ছাড়া নির্মাণকাজ চলাকালে বৃষ্টির মধ্যে ঢালাই দেওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ইটের খোয়া ভেসে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করছে ঠিকাদার। পর্যাপ্ত সিমেন্ট ব্যবহার না করে এবং রড সঠিকভাবে বাঁধাই না করে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবছর বর্ষায় এই সড়ক ডুবে যাওয়ায় রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই সমস্যার সমাধানে কুলাউড়া ব্যবসায়ী সমিতি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহায়তায় প্রায় ২৫০ ফুট অস্থায়ী সাঁকো বানানো হতো। দুর্ভোগ নিরসনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে এই সড়ক সংস্কার প্রকল্প গ্রহণ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. রফিক মিয়া বলেন, “কোনো অনিয়ম হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও খোয়া ভেসে উঠেছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন বলেন, “কাজ শুরুর সময় ঠিকাদার স্বাধীনভাবে কাজ করতে চেয়েছিল। এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে কাজ হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মৌলভীবাজার স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুল হক বলেন, “প্রকৌশলীদের তদারকিতে কাজ করা হচ্ছে। কোথাও উপকরণে কমবেশি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে কাজ সঠিকভাবেই হচ্ছে।