টানা হারের বৃত্তে আটকে পড়া বাংলাদেশ দলের সামনে আবার নতুন চ্যালেঞ্জ। নতুন দিন, নতুন ম্যাচ, নতুন সম্ভাবনা। আজ (রবিবার) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। হারলে সিরিজ হাতছাড়া—জিতলেই থাকবে টিকে থাকার সুযোগ। প্রথম ম্যাচে হেরে এরই মধ্যে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা আজই সিরিজ নিশ্চিত করতে চায়। অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে কোনো বিকল্প নেই—জিততেই হবে।
তবে মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি স্পষ্ট। শেষ ছয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় নেই বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের আগে পাকিস্তানের মাটিতে তিন ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার—সব মিলিয়ে দলটি খুঁজে ফিরছে জয়ের ছন্দ।
ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই নেই ধারাবাহিকতা। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা ভাবিয়ে তুলেছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। দলের বোলিং কোচ ও সাবেক লেগ স্পিনার মুশতাক আহমেদও জানিয়েছেন, দলের ব্যাটসম্যানদের ইনিংস বড় করতে হবে এবং দায়িত্বশীলভাবে খেলতে হবে।
তার মতে, যখন একজন ব্যাটার ৩০-৪০ রানে সেট হয়ে যায়, তখন তার লক্ষ্য হওয়া উচিত ৭০-৮০ রানে ইনিংস গড়া। শ্রীলঙ্কার কুশল মেন্ডিসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তিনি ধারাবাহিকভাবে রান করছেন এবং বাংলাদেশের বোলারদের সমস্যায় ফেলছেন। একই দায়িত্ব একজন বাংলাদেশি ব্যাটারেরও নেওয়া দরকার।
মুশতাক আরও বলেন, পরিকল্পনার ঘাটতিও রয়েছে ব্যাটসম্যানদের মাঝে। চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে জয়ের জন্য লড়াকু স্কোর গড়তে হয়, আর সেটা করতে হলে প্রথম দিকে ভালো শুরু পাওয়ার পর ইনিংস বড় করতে হবে। শামীম হোসেনের রিভার্স-সুইপে ছক্কার কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যা দলকে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিল।
ডাম্বুলায় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাস এবারই শুরু হচ্ছে। সর্বশেষ এখানে ওয়ানডে খেলেছিল বাংলাদেশ ২০১৭ সালে। সেই দলের তিনজন (মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান) আছেন বর্তমান স্কোয়াডে।
ডাম্বুলার উইকেট সাধারণত কম স্কোরিং হলেও রাতের ম্যাচে ব্যাটিং সহজ হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই টস হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কন্ডিশন নয়,স্বয়ংক্রিয় পারফরম্যান্সই আজ মুখ্য হয়ে উঠবে বাংলাদেশের জন্য।
প্রশ্ন একটাই—বাংলাদেশ কি এবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? পরাজয়ের গেরো ছিঁড়ে কি টিকে থাকবে সিরিজে? উত্তরের জন্য অপেক্ষা আরও কয়েক ঘণ্টার।