স্টাফ রিপোর্টার:
খিলক্ষেতে রাজনৈতিক ছায়া ব্যবহার করে চিহ্নিত চাঁদাবাজ মামুন ও শরিফ বেপরোয়া তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রশ্ন—তাদের পেছনে কে সেই গডফাদার? এলাকাজুড়ে এ নিয়ে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খিলক্ষেত বাজার ও রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে অবৈধ দোকান বসিয়ে দৈনিক চাঁদা আদায়ের হোতা এই দুইজন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ৫ আগস্টের পর থেকে তারা ফুটপাত, রাস্তা এবং পথচারী করিডোরে দোকান বসিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খিলক্ষেত ওভারব্রিজ থেকে বটতলা হয়ে লেকসিটি পর্যন্ত প্রায় ৩০০-র বেশি দোকান বসানো হয়েছে।
প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ৩০০ টাকা এবং প্রতিটি ভ্যানগাড়ি থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। এতে দৈনিক প্রায় এক লাখ টাকার মতো অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাজার, রেলগেট, ও ফুটপাত দখল করে এসব দোকান বসানোর কারণে মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাগুলো সরু হয়ে পড়েছে এবং প্রতিনিয়ত যানজট লেগে আছে।
একজন বাসিন্দা বলেন,সেনাবাহিনীর অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি খিলক্ষেতের ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামুন ও শরিফ সেনাবাহিনীর হাতে দুই দফা ধরা পড়লেও তারা দ্রুত ছাড়াও পেয়ে যায়। মামুন ছাড়ার সময় আর চাঁদাবাজি করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিক দম্পতির ওপর হামলা চালিয়ে তাদের দুই পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
একজন ব্যবসায়ী জানান, সেনাবাহিনী ধরেও নিয়ে গেছে, কিন্তু ছাড়া পাওয়ার পর তারা আগের চেয়েও বেশি চাঁদা তুলছে। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেয়। বাইরে থেকে সন্ত্রাসী এনে বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। পর্দার আড়ালে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের সরাসরি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।”
বিভিন্ন দোকানদারদের অভিযোগ, চাঁদা না দিলে দোকান ভেঙে ফেলা হয় বা স্থান ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বেশিরভাগই মুখ খুলতে সাহস পান না।
একজন হকার বলেন,প্রতিদিন ৩০০ টাকা চাঁদা না দিলে এখানে দোকান করা যায় না। এত টাকা চাঁদা দেয়ার পর নিজের সংসার চালানোই কষ্ট। দেখার কেউ নেই।”
নিয়মিত অভিযোগের পরও প্রশাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই নিরাপত্তার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ করতে ভয় পান।
খিলক্ষেতের কয়েকজন নাগরিক বলেন,
ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির কারণে এলাকা অচল হয়ে গেছে। জনস্বার্থে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি।”
সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের মত—
পথদখল ও অবৈধ দোকান না সরালে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটতে পারে। স্থানীয়দের দাবি- বাজার ও রেলগেট এলাকা দখলমুক্ত করে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। তা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
সার্বিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে খিলক্ষেত ১৭ নং ওয়ার্ডে ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা ও স্থায়ী সমাধান প্রত্যাশা করছেন।