মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
সাতক্ষীরায় একের পর এক নগদে আসা উপবৃত্তির টাকা নিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। নগদ কর্তৃপক্ষের অসচেতনার কারনেই প্রতারক চক্রটি এ ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ এমনটিই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই এই সংকট বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ভাতভোগীরা। শুধু শিক্ষা বৃত্তিই নয় নানা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাও। নগদ কর্তৃপক্ষের তদারকি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতির কারনেই এমন সমস্যা পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
শ্যামনগরের আকারুল ইসলাম জানান,তার পুত্র ৪র্থ শ্রেণিতে পড়া শোনা করেন। তার সন্তানের টাকা নগদ একাউন্টে এসেছিল। কিন্তু তা উত্তোলনের পূর্বেই প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিয়েছে। নগদে না দিয়ে যদি বিকাশে প্রেরণ করতো তাহলে এই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তাম না বলে দাবি করেন তিনি।
আশাশুনির আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার সন্তানের উপবৃত্তির টাকা নগদে আসলেও তা উত্তোলন করার পূর্বেই প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিয়েছে।
একই অভিযোগ শ্যামনগরের কাশিমাড়ী ইউনিয়নের ঝাপালী গ্রামের সাকিলা ও মনিরুলের মা নাজমা আক্তারের। তিনি বলেন আমার দুই সন্তান জমজ। দুই বছর ধরে তারা স্কুলে পড়ে। কিন্তু এক বারের টাকাও পাইনি। তিনি বিকাশের মাধ্যমে উপবৃত্তির অর্থ দেওয়ার দাবি জানান।
শ্যামনগর উপজেলার সমাজসেবা অফিসার দেলোওয়ার হোসেন বলেন,আমার বর্তমানে ব্যাংকের মাধ্যমে উপবৃত্তির অর্থ দেওয়া শুরু করেছি। যাতে কেউ ক্ষতি গ্রস্থ না হয়। তারপরও ভাতার দাবি অনুযায়ী অন্য মাধ্যমে অর্থ দিতে প্রস্তুত আছি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ বিশেষ করে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই নগদে নানান সমস্যার সম্মুখিত হতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতির কারনেই এ সমস্যা তৈরি হয়েছে অভিযোগ তাদের। অবিলম্বে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
৭০ বছরের বৃদ্ধা হামিদা খাতুন জানান,নগদ একাউন্টে তারা ছেলের নাম্বারে ভাতার অর্থ আসত কিন্তু। প্রতারক চক্রটি তাদের কয়েক মাসের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে নতুন করে বিকাশে একাউন্ট খুলেছেন।
সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো.শরিফুল ইসলাম বলেন,পূর্বে শুধুমাত্র নগদে উপবৃত্তির অর্থ পাঠানোর নির্দেশনা থাকলেও বর্তমানে তা নেই। এখন ভাতা ভোগীরা যে মাধ্যমে উপবৃত্তির অর্থ নিতে আগ্রহী আমরা সেটাতেই দিতে প্রস্তুত আছি। ভাতা ভোগীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে আমাদের দপ্তর।