মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
দেশি মাছের আকাল যত স্পষ্ট হচ্ছে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় ঠিক ততটাই ব্যস্ত সময় কাটছে শুঁটকি ব্যবসায়ীদের। স্থানীয় খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়া,পানি প্রবাহে বাধা এবং চায়না দুয়ারী সহ ক্ষতিকর জাল ব্যবহারের কারণে দেশি প্রজাতির মাছ দিন দিন কমে আসলেও তিয়াশী নদীর তীরজুড়ে এখন শুঁটকি শুকানোর ধুম। নদী-খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় মাছের প্রজনন বাধা গ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। গ্রামের মানুষ আগে বর্ষা এলেই খাল বিলের দিকে ছুটে যেতেন চাবি,খাওলা বা জাল নিয়ে। এখন সেই দৃশ্য বহু কম।
তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নের গোপালডাঙ্গা গ্রামের পঙ্কজ রায় বলেন,আগে বিল ভরা মাছ ছিল। এখন ৩০-৩৫ ধরনের দেশি মাছ প্রায় হারিয়ে গেছে। মাগুর,সিং,পাবদা,টাকি,চিতল,কই,বোয়াল,সরপুটি সবই দুর্লভ হয়ে পড়ছে।
দেশি মাছ যখন বিলুপ্তির পথে,তখনই তিয়াশী নদীর তীরে ব্যস্ততা বেড়েছে শুঁটকি উৎপাদনে। স্থানীয় আড়ত গুলোর শুঁটকি যাচ্ছে ঢাকা সহ চট্টগ্রাম,রংপুর, বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।
দুধলিয়ার চরে দেখা যায় বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সারি সারি মাছ রোদে শুকোতে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকেরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ উল্টে দিচ্ছেন,বাছাই করছেন।
তালা সদরের হযরত আলী নিকারি দুধলিয়ায় বড় শুঁটকিঘাট চালু করেছেন।
তিনি বলেন,প্রতি দিন প্রায় ১০০ মণ মাছ শুকানোর জন্য কিনি। ট্যাংরা,ফুটি,বাইন,তেলাপিয়া,সিলভার কাপ,রুই,কাতলা যে মাছ পাই,সবই শুঁটকি করি।
জেলেরা বর্ষায় যে অল্প কিছু মাছ ধরতে পারে, সে গুলো সরাসরি আড়তদারদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন,যেখানে দাম বেশি পাব, সেখানেই বিক্রি করব এটাই স্বাভাবিক। তবে মাছ শুঁটকি করা হচ্ছে কি না তালা উপজেলা মৎস্য অফিস এ বিষয়ে জানতে পারলে দায়িত্ব এড়িয়েই বলেছে,এটা আমাদের বিষয় না।
বর্ষায় যে সামান্য পানি জমে,তাতেই দেশি মাছ জন্মায়। কিন্তু অসাধু ব্যক্তিরা চায়না দুয়ারী,কারেন্ট জাল ও বিষ দিয়ে সেই মাছ নিধন করছে। ফলে খলিশখালী,চোমরখালী,শুকদাঙ্গা,দুদলি,গোপালডাঙ্গা, হরিণখোলা,কৈখালী সহ বিস্তীর্ণ জলাশয়ের মাছ কমে যাচ্ছে দ্রুত।