এক মানুষরূপী হিংস্র হায়েনা পশুর বাস্তব কাহিনী।
বর্তমান কালে যাহা না জানলে পৃথিবীর মানুষের হিস্রতা বর্বরতা নির্মমতা আর নিকৃষ্টতা সম্পর্কে অজানাই থেকে যাবে । তিনি হলেন এম ডি সি মডেল স্কুল এন্ড কালেজের অবৈধ অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসাইন I ফ্যসিষ্ট সরকারের এম পি ইলিয়াস মোল্লার মদদপুষ্ট অধ্যক্ষ হওয়ার মত শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান অধ্যক্ষের মত পদে অধিষ্ঠিত হয়ে তার অধিনস্ত শিক্ষক কর্মচারীদের উপর অমানবিক নির্যাতন আর বর্বরতার এক যুগান্তকারী অধ্যায় রচনা করেছেন।
এই মানুষটিকে তার অভিভাবক একজন সং মানুষ হওয়ার নিমিত্তে গ্রামের একটি মাদ্রাসায় সুশিক্ষা গ্রহণের জন্য পাঠান । সেখান থেকে দাখিল ও আলীম পাশ করে রশিদ আদর্শ স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরী নিয়ে একের পর এক অবৈধ অনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে স্বনামধন্য এম ডি সি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান পদ দখল করে প্রতারনা আর দুর্নীতির এক স্বর্গরাজ্য কায়েম করেছেন। একাধিক পত্রপত্রিকায় তার এ নৈরাজ্যের খবর প্রচারিত হলেও তার টনক নড়ছে না | ফ্যাসিবাদ কায়দায় প্রতারণা দুর্নীতি আর অবৈধ কর্মকান্ড অব্যহত ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন |
এই স্কুলে প্রায় ৭০ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৩ জন মাত্র এমপিওভুক্ত বাকী ৫৭ জন শিক্ষক সবাই অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত I এই এমপিও ভূক্ত শিক্ষকদের মধ্যেও কয়েকজন কে অবৈধভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন আর অস্থায়ী ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ৭৭% শিক্ষকদের উপর যাচ্ছেতাই আচরণ করেন । চরম মিথ্যাচার করে একই সাথে ৪ জন শিক্ষককে অব্যাহতি দিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনকে তছনছ করে দেন । জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অবৈধভাবে লোক নিয়োগের পায়তারা করেন ৷ বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব আব্দুল মজিদ স্যারকে জানানো হলে তিনি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে এধরণের প্রতারণা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন এবং অবৈধ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করেন । যাদের মিথ্যাচারের মাধ্যমে অব্যহতি দেয়া হয়েছে তাদের অব্যহতি বাতিল করে পুনঃ নিয়োগের সুপারিশ করেন অথবা ৩ মাসের বেতন দেয়ার পরামর্শ দেন | জেলা শিক্ষা অফিসারের সকল পরামর্শ অগ্রাহ্য করে পুনঃ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ১৩ জন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে তার নিয়োগ বানিজ্য চরিতার্থ করেন I শিক্ষক নিয়োগের সময় তিনি স্থায়ীকরণের আশ্বাস দেন এবং প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহন করেন । শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করে জানা যায় এই নিয়োগের নাকি কোন রকম আইনগত ভিত্তি নাই | অথচ প্রশাসনের নাকের ডগায় জাতীর পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করছেন ।তাছাড়াও সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন I এই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসাইন মিথ্যাচার অনিয়ম অত্যাচার নির্যাতনের এক স্বর্গরাজ্য কায়েম করেছেন | যা ইতিমধ্যেই একাধিক পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে । তার বর্বরতা হিংস্রতা এবং দুর্নীতি সম্পর্কে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেও কোন ফলাফল পাওয়া যায় নাই |
এদেশে ন্যুনতম কোন আইনের শাসন থাকলে কীভাবে প্রকাশ্যে এধরনের বে আইনী কর্মকান্ড করে ফ্যাসিষ্ট সরকারের সময়ের মতই এখনও বহাল তবিয়তে টিকে আছেন | এযেন পশুর রাজত্ব | হিংস্র এই হায়েনা গুলোকে প্রতিরোধ করার কোন পদক্ষেপ কেউ নিচ্ছেন না বা নেয়ার সাহস পাচ্ছেন না তা সচেতন মহল জানতে চায় । প্রশ্ন জাগে এহেন মিথ্যাবাদী দুর্নীতিবাজ নিকৃষ্ট প্রকৃতির লোক যদি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয় তাহলে হাজারো শিক্ষার্থী এখান থেকে কী শিক্ষা লাভ করবে ? আর নির্যাতনে পিষ্ট শিক্ষকরাও যথাযথ শিক্ষা প্রধানের মানুষিক তা হারাবে | এ প্রেক্ষিতে উক্ত স্কুলে অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের তদন্তের মাধ্যমে সত্য উৎঘাটন করে এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসা বাঞ্ছনীয় ।
নির্যাতিত নিপিড়িত চাকরী চ্যুত সকল শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ