মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
সাতক্ষীরায় সময় মতো সরবরাহ না পাওয়ায় কৃত্রিম সারের সংকট দেখা দিয়েছে। সংকটকে কেন্দ্র করে কৃষকদের বস্তা প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে বাজারে কোনো সংকট নেই,ডিলাররা বলছেন চাহিদার তুলনায় মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ সরবরাহ পাওয়ায় সংকট প্রকট।
বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশ খানিকটা বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি ২৭ টাকার টিএসপি বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৩৬ টাকায়, ২১ টাকার ডিএপি মিলছে ৩৪-৩৫ টাকায়। ইউরিয়া ২৭ টাকার বদলে ২৮-৩০ টাকা, এমওপি ২০ টাকার বদলে ২২ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়,সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই তিন মাসে সাতক্ষীরায় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি সারের মোট চাহিদা ছিল ২৬ হাজার ৯৭১ মেট্রিক টন। পাওয়া গেছে মাত্র ১১ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন। ঘাটতি ১৫ হাজার ৬০২ মেট্রিক টন যা প্রায় ৩ লাখ ১২ হাজার বস্তার সমান।
সাতক্ষীরায় মোট ৪ লাখ ২৩ হাজার ৫২৩টি কৃষক পরিবার রয়েছে। জেলার প্রান্তিক পর্যায়ে সার বিতরণের জন্য বিসিআইসি ও বিএডিসির ১৯৮ জন ডিলার এবং ৬৭২ জন সাব-ডিলার দায়িত্বে থাকলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এবার কম বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান,কৃষি কাজের তুলনায় মাছের ঘেরে সারের চাহিদা বহু বেশি। একটি বিঘায় ফসল উৎপাদনে যেখানে লাগে ৫ বস্তা সার, সেখানে মাছের ঘেরে প্রয়োজন হয় ১৫ বস্তা। ফলে সারের ওপর চাপ বাড়ে। জেলার সব এলাকায় কৃষিকাজ একই মাত্রায় হয় না। কোথাও বেশি, কোথাও তুলনামূলক কম ফলে চাহিদাতেও ভিন্নতা থাকে।
সাতক্ষীরা সদরের আলিপুর ইউনিয়নের সাব-ডিলার আব্দুস সাকি বলেন,আলিপুরে সারা বছরই কৃষি কাজ চলে। চাহিদা অনেক বেশি,কিন্তু বরাদ্দ অন্য ইউনিয়নের মতোই। তাই কম চাহিদা সম্পন্ন এলাকায় গিয়ে নিজেরা সার কিনে এনে বিক্রি করতে হয়,দামে তাই কিছুটা বেশি পড়ে।
জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলামও সরবরাহ কমের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন,চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পেয়েছি। আবার বাইরের জেলা থেকে সার এনে কিছু ডিলার বেশি দামে বিক্রি করছে। তবে সামনে বরাদ্দ বাড়বে,তখন সংকট থাকবে না।
কৃষকরা অভিযোগ করেছেন,বাজারে সিন্ডিকেট করে সার, তেল ও কীটনাশকের দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে সার চাইলে ডিলাররা সরবরাহ নেই বলে ফেরত দিচ্ছেন কিন্তু ৩০০-৫০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে রাজি হলেই মিলছে বলে জানিয়েছেন তারা। টিএসপি ৩৫-৩৬ টাকা দিলে পাওয়া যায়, ডিএপি ৩৪-৩৫, ইউরিয়া ২৮-৩০, এমওপি ২২ টাকা। ন্যায্যমূল্য চাইলে বলছে সার নেই। তারা দায়ী ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি করেছেন এবং কম দামে সার-কীটনাশক নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপপরিচালক কৃষিবিদ মো.সাইফুল ইসলাম বলেন,সরকার যে বরাদ্দ দেয়,তা জেলার জন্য যথেষ্ট। আমরা নিয়মিত ডিলারদের মধ্যে বণ্টন করি। তারা সময়মতো টাকা জমা দিয়ে সার উত্তোলন করলে কৃষকদের সমস্যায় পড়ার কথা নয়।
তিনি আরও জানান,জেলায় নতুন করে ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ২ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি, ২ হাজার ৯০৪ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ২ হাজার ৫৫২ মেট্রিক টন এমওপি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ডিসেম্বরের ২৫ তারিখের মধ্যে আরও বরাদ্দ আসবে বলে আশা করছেন তিনি। তিনি সতর্ক করে বলেন,কেউ বেশি দামে সার বিক্রি করলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। জরিমানার পাশা পাশি ডিলারশিপ বাতিলের বিধানও আছে।