মনির হোসেন জীবন, বিশেষ সংবাদদাতা :
রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে বিদ্যুৎ ট্রান্সমিটারের স্টোর কিপার সিদ্দিকুর রহমান হত্যাকান্ডের ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও অভিযুক্ত পেশাদার ছিনতাইকারী মোঃ ইমরান (৩০)’কে টঙ্গীর একটি মাদক স্পট থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১)।
র্যাব সূত্র বলছে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ) ভোরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (৫৬) নিহত হওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিনতাইকারী ইমরানকে (৩০)কে টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করেছে এলিট ফোর্স র্যাব-১, উত্তরা।
এসময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত তার সাথে থাকা একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও একজোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১ এর একটি আভিযানিক চৌকস দল গতকাল রোববার (৭ ডিসেম্বর, ২০২৫) বিকেল আনুমানিক পৌঁছে ৬টার দিকে কুখ্যাত মাদক স্পট হিসেবে পরিচিত টঙ্গী মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরে গত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে র্যাব-১ এর কার্যালয়ে এসংক্রান্তে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। র্যাব-১, এর কমান্ডিং অফিসার (অধিনায়ক) লেঃ কর্ণেল আশিকুর রহমান প্রেসব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
এলিট ফোর্স র্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) মোঃ রাকিব হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করে র্যাব-১ জানিয়েছে, নিহত সিদ্দিকুর রহমান পেশায় বিদ্যুৎ ট্রান্সমিটারের স্টোর কিপার ছিলেন এবং টঙ্গী পূর্ব থানাধীন মধুমিতা রোডের বাসিন্দা, গত শনিবার সকালে তার কর্মস্থল ঢাকার কেরানীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ওই দিন সকাল আনুমানিক ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন বন্ধন কমিউনিটি সেন্টারের সামনের ফ্লাইওভারের উপরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে ।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে র্যাব বলছে, অভিযুক্ত ছিনতাইকারী ইমরান ভিকটিম সিদ্দিকুর রহমানের পথরোধ করে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বাধা দিতে গেলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে আসামী ইমরান তার সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে সিদ্দিকের বাম হাতের উপরে অংশে তিনটি আঘাত করে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর সময়, ছুরিকাঘাতের ফলে ছিটকে পড়া রক্ত ইমরানের জুতায় লেগে যায়। আসামী দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার ছুরি এবং রক্তমাখা জুতো জোড়া ঘটনাস্থলের সিঁড়িতে ফেলেই টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তিতে আশ্রয় নেয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ভিকটিম সিদ্দিক ঘটনাস্থলের নিচে সিঁড়ির কাছেই মারা যান। উক্ত ঘটনার পরে অভিযুক্ত ইমরান কোনাবাড়ী, গাজীপুর এলাকায় যায় এবং ঘটনার দিনই আবার মাজার বস্তিতে ফিরে এসে আত্মগোপন করে। ছিনতাইকৃত মোবাইলটি মাজার বস্তি এলাকায় মাত্র এক হাজার টাকায় বিক্রয় করে। আটককৃতের নাম ইমরান (৩০), পিতাঃ ইউনুস তালুকদার, মাতাঃ ময়না বেগম, ঠিকানাঃ কড্ডা কালাকুর, থানা-কোনাবাড়ী, গাজীপুর মহানগর একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ছিনতাইকারীর ব্যবহৃত ছুরি ১টি এবং আসামীর ১ জোড়া জুতা।
র্যাব-১ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনায় জড়িত আসামীদেরকে গ্রেফতারের জন্য র্যাব-১ এর সিপিসি-২, উত্তরা, ঢাকার আভিযানিক দল বিষয়টি আমলে নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামীদের কে গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।
পরবর্তীতে আভিযানিক দলটি ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং ফেলে যাওয়া আলামত (ছুরি ও জুতো) পর্যালোচনা করে ঘাতক ছিনতাইকারী ইমরানকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
এতে আরো বলা হয়, র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন যে কোন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ফাষ্ট রেসপন্ডার হিসেবে কাজ করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১ এর চৌকশ আভিযানিক দল অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে আসামী সনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনার সংক্রান্তে গত ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত সাড়ে ৮টায় গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব-১।