সুএ : (মাদক মামলা ১১/ ৭১৯ তারিখ ৩/৮/২২। মাদক মামলা নং ১০/১১৩ তারিখ ১১/৪/২২। খিলক্ষেত থানার মামলা নং ০৭ তারিখ ০৬/১২/২৫।)
হাফিজুর রহমান:
রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় ভুয়া “সাংবাদিক” পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, হয়রানি ও বিভিন্ন অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে হাবিব সরকার স্বাধীন গংয়ের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ভুক্তভোগী খিলখেত বাজার সংলগ্ন বিভিন্ন ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানিয়েছেন, হাবিব সরকার স্বাধীন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বেকারি, ডেইরি ফার্ম, ও দোকানে গিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এমনকি খিলক্ষেত রেললাইন এবং এয়ারপোর্ট মোরে ফুটপাতে দোকান বসিয়ে নিয়মিত চাঁদা তুলে স্বাধীন।
অভিযোগে বলা হয়, ভয়ংকর রাক্ষুসে সাংবাদিক স্বাধীন তার তত্ত্বাবধানে রয়েছে একটি কুচুক্রি মহল। এই চক্রটি খিলক্ষেত সহ বনানী এলাকায় সরাসরি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।
তারা কখনো ডিআইজির পরিবারের পরিচয়, কখনোবা থানার কর্মকর্তার আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখায়। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে বনানী সহ খিলক্ষেতের বেশ কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে এবং নিজের ছবি দিয়ে শেখ সেলিমকে শুভেচ্ছা পোস্টার বানিয়ে হাবিব সরকার স্বাধীন সকলের সম্মুখে স্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগের দালালি করে আসছিল। ৫ ই আগস্ট এর প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে কিছুদিন ঘাপটি মেরে থেকে স্বাধীন আবার খিলক্ষেতে ভুয়া প্রেসক্লাব খুলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানা সহ বনানী ও মিরপুর পল্লবী থানায় রয়েছে একাধিক মাদক মামলা সহ বিভিন্ন মামলা, বেশ কয়েকটি মামলা থেকে জামিন নিলেও আরো বেশ কয়েকটি মামলায় রয়েছে তার ওয়ারেন্ট। এসব বিষয়ে স্বাধীন সংশ্লিষ্ট খিলক্ষেত থানায় প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সকলের সম্মুখে পুলিশের নাকের ডগায় খিলক্ষেত বাজারে বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গার উপরে প্রেসক্লাবের নামে জায়গা দখল করে অনেকগুলো দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে বলে অভিযোগ আছে। স্থানীয়রা জানান, স্বাধীন গং প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে এবং আপত্তিকর বা ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ করে ।
৫ ই আগস্ট এর আগে স্বাধীন কিছুদিন প্রেসক্লাবের অফিসে অবস্থান করে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী তোফাজ্জেল চেয়ারম্যান এর ট্রাক মার্কার পোস্টার লাগিয়ে সরাসরি আওয়ামী লীগের নির্বাচন করে । জীবনের শুরুতে কুমিল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এসে পূর্বে সে বনানীতে চা বিক্রি করতো। সে লেখাপড়া জানে না কোনভাবে মোবাইল অপশনে গিয়ে মুখে কথা বলে মিথ্যা নিউজ লিখে নিজের ফেসবুকে দিয়ে মানুষকে ভয় দেখায়। ৫ ই আগস্ট এর আগে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার ফটো সাংবাদিক বিপ্লবের ক্যামেরা চুরির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে । পরবর্তীতে উত্তরা পশ্চিম থানা এবং খিলখেত থানার পুলিশের সহযোগিতায় বিচার-আচার বসাইয়া ক্যামেরার জরিমানা স্বরূপ টাকা আদায় করিলে পরবর্তীতে স্বাধীন আবার চুরি করা ক্যামেরা ফেরত দিয়ে বিপ্লবের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেয়। এই খবরটি খিলক্ষেত সহ উত্তরা এবং সারা বাংলাদেশ জেনে সকলে কথিত স্বাধীনের কর্মকাণ্ডে ছি ছি করেছে । কিন্তু নির্লজ্জ ভয়ংকর সাংবাদিক স্বাধীনের আক্কেল হয়নি। খিলখেত বাজারের আশেপাশের দোকানে ক্লাব পরিচয়ে হুমকি দিয়ে থাকে হাবিব সরকার স্বাধীন গং । খিলক্ষেত থানা এলাকার জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সহ এলাকাবাসী জানান, বিভিন্ন অসদাচরণের কারণে এবং বিভিন্ন মহিলা গঠিত বিষয়ে প্রতারণা করিয়া তাদেরকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে, এসব বিষয়ে জানতে পেরে এলাকাবাসী তাকে খিলক্ষেত এলাকা হইতে বের করার সিদ্ধান্ত নেয় । তার সূত্র ধরে পাঁচই আগস্ট এই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দালাল স্বাধীনের স্বাধীনের ভুয়া খিলক্ষেত প্রেসক্লাব ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। স্বাধীন এলাকা থেকে পালিয়ে যায় আবার ৫ ই আগস্টের পর কিছু বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সংবাদ ফেসবুকে প্রকাশ করে প্রথমে তাদেরকে ভয় দেখায়। পরবর্তীতে কৌশলে তাদের সাথে আবার সম্পর্ক তৈরি করে তাদের সহযোগিতায় তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় খিলক্ষেত বাজার সংলগ্ন রেলওয়ের জায়গার উপরে ভুয়া প্রেসক্লাব নির্মাণ করে।
হাবিব সরকার স্বাধীন নিজেকে বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তা–কর্মচারীর আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। তারই সূত্র ধরে একটি মহিলার পাওনা বেতনের টাকা উত্তোলনের দায়িত্ব নিয়ে নিজেই তার স্বাক্ষর জালজালিয়াতি করে ঐ ভুক্তভোগী মহিলার টাকা আত্মসাৎ করে। এ বিষয়ে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান প্রতিবাদ করলে এবং ঐ ভুক্তভোগী মহিলাকে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিলে বিষয়টি স্বাধীন গং জানতে পেরে সুযোগ বুঝে শিক্ষিত সাংবাদিক হাফিজুর রহমানকে খিলক্ষেত বাজারে হামলা করে মারধর করে রক্তাক্ত করে। এ বিষয়ে মাননীয় পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপে খিলখেত থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়।
এলাকার কিছু ব্যবসায়ী জানান, স্বাধীন গং প্রেসক্লাবের নাম ভাঙিয়ে ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি ও ব্যবহার করে। কেউ বিষয়টি জানতে চাইলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং কখনো কখনো হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক হাফিজুর রহমানকে মারার সময় স্বাধীন চিৎকার করে বলে , আমার বিরুদ্ধে কেউ কলম ধরলে কিংবা আমার কাজে প্রতিবাদ করলে প্রয়োজনে তাকে জিন্দা “জ্বালিয়ে দেওয়া হবে” প্রয়োজনে গুম করে ফেলব। আমার পিছনে আছে বিএনপি নেতা ফজলু তার অনেক মদ খাওয়া ভিডিও আছে আমার কাছে সে আমাকে বাঘের মতো ভয় পায় খিলক্ষেতে আমার কেউ কিছু ছিড়তে পারবে না ।
কিছু স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছে, স্বাধীন বর্তমানে নিয়মিত বাজারে অবস্থান করছে এবং কখনো সাংবাদিক, কখনো প্রেসক্লাব সভাপতি, কখনো বিভিন্ন সংগঠন বা বিএনপি নেতাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে কুকর্মচরিতার্থ করছে । এসব পরিচয় দিয়ে কথিত প্রতারণা বা চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ সহ প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় তার মাদকের ব্যবসা ঝমজমাট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে স্বাধীনের প্রতিদিন ইনকাম ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। সেখান থেকে পুলিশ পায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা স্থানীয় বিএনপি নেতা ও অন্যান্যরা পায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। স্বাধীনের বিষয় নিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের লোকজন মাননীয় পুলিশ কমিশনার মাননীয় উপ পুলিশ কমিশনার এবং খিলখেত থানার অফিসার ইনচার্জ এবং সেনাবাহিনী ক্যাম্প সহ রেপিড একশন ব্যাটালিয়নে অভিযোগ দিলে
তারা আশ্বস্ত করেন
অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।