1. alam9168@gmail.com : Jahangir Alam : Jahangir Alam
  2. mdsharif.hussain7@gmail.com : https://moderntvbd.com/ : https://moderntvbd.com/
  3. sharif.patwary2025@gmail.com : sumi islam : sumi islam
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে লবণাক্ত আমনের আশানুরূপ ফলন

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪ Time View

মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় এবার আমনের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে অনেকেই বাম্পার ফলন হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন।
পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত,প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকা এবং পোকার আক্রমণ খুব কম থাকার কারণে কৃষকরা তাদের আমন ধানের আশানুরূপ ফলন ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। গত বারের তুলনায় এবার আমন ফসল আরও ভালো হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন মন্ডক বলেন,শ্যামনগর উপজেলায় আমন ধান আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৮৩৫ হেক্টর। লক্ষ্য মাত্রার তুলনায় আবাদ বেশি হয়েছে।
এবার ফলন চালে লক্ষ্য মাত্রা ছিল উফশি ২ দশমিক ৯০ মেট্রিক টন,অর্জিত হয়েছে ৩ দশমিক ২ মেট্রিক টন। হাইব্রিড চালে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৮ মেট্রিক টন, অর্জিত হয়েছে ৪ দশমিক ১ মেট্রিক টন। বিঘা প্রতি আমন ফসল হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ মণ। গত বছর উপজেলায় আমন ধান আবাদ হয়েছিল ১৬ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে। ফলন ছিল হাইব্রিড চালে ৩ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন এবং উফশিতে ২ দশমিক ৯২ মেট্রিক টন।
উপজেলায় লবণ পানির চিংড়ি চাষের প্রভাব থাকলেও দিনে দিনে কৃষি ফসল উৎপাদনের দিকে,বিশেষ করে আমন ধান চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা,যা কৃষকবৃন্দ ও উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উপজেলার মুন্সিগঞ্জ,কাশিমাড়ি, শ্যামনগর, নূরনগর, কৈখালী, আটুলিয়া ও ভূরুলিয়া ইউনিয়নে বেশি আমন ধান আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,চাষকৃত জাতের মধ্যে উফশিতে ছিল বিআর-১০, ব্রিধান-৩০, ব্রিধান-৪৯, বি-৮৭, ব্রি-৭৫ ও ব্রি-৫১। হাইব্রিড জাতের মধ্যে ছিল বায়ার-৭০০৬ ও ধানী গোল্ড। স্থানীয় জাতের মধ্যে ছিল চিনিকানি, যা থেকে ১৪ থেকে ১৫ মণ ফলন পাওয়া গেছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক শ্যামনগরের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদ্দার বলেন,তাদের নির্ধারিত কয়েকজন কৃষক স্থানীয় জাতের আমন ধান চাষ করেছেন এবং ভালো ফলন পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ১৬২ প্রকার স্থানীয় জাতের আমন ধান ছোট ছোট প্লটে কৈখালীতে চাষ করা হয়েছিল এবং সেখানেও ভালো ফলন পাওয়া গেছে। স্থানীয় ধান, বিশেষ করে চিনিকানি ধানের মূল্য সবচেয়ে বেশি বলে তিনি জানান।
বুড়িগোয়ালিনী ইউপির আবাদচন্দিপুর গ্রামের আমন চাষি মিজানুর রহমান বলেন, এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে, এখন ন্যায্য মূল্য পেলে খুশি হবো। মুন্সিগঞ্জ ধানখালী গ্রামের আমন চাষি সুনীল বৈদ্য বলেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও দুর্যোগ না থাকার কারণে আমনের ফলন আশানুরূপ হয়েছে।
আমন চাষি ফজলুল হক,কৈখালীর হাবিবুর রহমান ও ধূম ঘাটের কৃষাণি অল্পনা রানী বলেন,কৃষকের কষ্টার্জিত আমন ফসলের ন্যায্য মূল্য পেলে পরিবারের অনেক স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হবে। তারা বলেন, বর্তমানে এলাকায় ধানের বস্তাপ্রতি মূল্য ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা।
উপজেলায় সরকারি ভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি ভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে এবং চলবে ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত। ধানের মূল্য প্রতি কেজি ৩৪ টাকা এবং সিদ্ধ চালের মূল্য প্রতি কেজি ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা ১৫১ মেট্রিক টন এবং চাল ৬৭ মেট্রিক টন। এর মধ্যে আতপ চাল ২৫ মেট্রিক টন। নকিপুর ও নওয়াবেঁকী খাদ্য গুদামে ধান ও চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উপজেলার বিদায়ী কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন,শ্যামনগরে এবার কৃষকের আমন ফলনকে বাম্পার ফলন বলা যায়। আশা নুরূপের চেয়ে বেশি ফলন পাওয়া গেছে। ফলন ভালো হওয়ার কারণ ছিল পর্যাপ্ত ও সময়োপযোগী বৃষ্টিপাত,পোকার আক্রমণ কম থাকা, কৃষি বিভাগের তৎপরতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ না থাকা এবং কৃষকদের ভালো পরিচর্যা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © moderntvbd.com
Theme Customization By Sky Host BD