মনির হোসেন জীবন : রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরা ও খিলক্ষেত (নিকুঞ্জ-১) এলাকায় পৃথক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অভিনব এক মোবাইল ফোন জালজালিয়াতি চক্রের মূল হোতা তিন চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবি পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃতরা হলো-তান জিয়ান (TAN JIAN), উ জুন (WU JUN) ও ডং হংওয়েই (DONG HONGWEI)।
অভিযানকালে বিভিন্ন মডেলের ৩৬৩টি আইফোন, আইফোনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ৮ বোতল বিদেশি মদ ও নগদ ২৬ হাজার টাকা উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত এসব আইফোন ও যন্ত্রাংশের বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি, ২০২৬) সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ডিবি মিরপুর ডিভিশনের ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল।
ডিবি মিরপুর বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে ডিবি মিরপুর বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ, গাড়ী চুরি প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিম উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টর এলাকার একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে চীনা নাগরিক তান জিয়ানকে ৫৮টি আইফোনসহ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে একই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ-১ এলাকার একটি বাসায় পৃথক অভিযান চালিয়ে উ জুন ও ডং হংওয়েইকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে আরও ৩০৫টি আইফোন, আইফোনের খুচরা যন্ত্রাংশ, নগদ ২৬ হাজার টাকা ও আট বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা দামি ব্রান্ডের মোবাইল ফোনের খুচরা যন্ত্রাংশ নানা উপায়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসে এবং সংযুক্ত করে স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রয় করে। এই চক্রের সাথে স্থানীয় কিছু অসাধু মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরাও জড়িত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল
জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো গোয়েন্দা পুলিশের এই অভিযানে ৩৬৩টি আইফোন (বিভিন্ন মডেলের), বিপুল পরিমাণ আইফোনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ৮ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা এসব আইফোন ও যন্ত্রাংশের বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা।
তিনি আরো বলেন, ডিবির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক অবিশ্বাস্য তথ্য। চক্রটি বিদেশ থেকে অবৈধ পথে আইফোনের বিভিন্ন পার্টস বা খুচরা যন্ত্রাংশ দেশে নিয়ে আসত। এরপর রাজধানীর গোপন ডেরায় বসে দক্ষ কারিগর দিয়ে সেগুলো ‘এসেম্বল’ বা জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ আইফোন তৈরি করত। এসব ফোন একদম নতুনের মতো মোড়কজাত করে আসল আইফোন হিসেবে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হতো।
ডিবি পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। কেবল এই তিন চীনা নাগরিকই নন, এর সঙ্গে দেশীয় কিছু অসাধু মোবাইল ব্যবসায়ীও সরাসরি জড়িত।
তিনি আরো বলেন, দামি ফোন কেনার সময় গ্রাহকদের অতিরিক্ত সচেতন হতে হবে। সস্তা বা অননুমোদিত দোকান থেকে ফোন কিনে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।’ বর্তমানে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত দেশীয় অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া এ সংঘবদ্ধ চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে এবং তাদেরও সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গ্রেফতারকৃত মোবাইল ফোন জাল-জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা তিন চীনা নাগরিক (ব্যক্তি)দের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চল