মোহাম্মদ সুমন চৌধুরী, ঢাকা | ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
রাজধানীর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৭ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ড এবং সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ও বনগাঁও ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৪। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিক, গার্মেন্টস কর্মী এবং মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের আবাসস্থল এই আসনে বইছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া।
এই আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী জনাব নুরুল আমিন তার ‘তারা’ প্রতীক নিয়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন এবং পরিবর্তনের এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার ব্যক্ত করছেন।
প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধ ও সংকটের চালচিত্র
ঢাকা-১৪ আসনটি রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এবং বৈচিত্র্যময় এলাকা। গাবতলী টার্মিনাল সংলগ্ন হওয়ায় একে ঢাকার ‘প্রবেশদ্বার’ বলা হয়। তবে এই এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মোটেও সহজ নয়।
প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট এবং ফুটপাত দখল করে থাকা হকারদের কারণে নাভিশ্বাস উঠছে পথচারী ও যাত্রীদের।
এলাকার তরুণ সমাজের বড় একটি অংশ মাদকের মরণনেশায় আক্রান্ত, যা স্থানীয় জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিনের অবহেলায় ভেঙে পড়েছে খেলাধুলার অবকাঠামো। মাঠের অভাবে কিশোর-তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
প্রার্থী নুরুল আমিনের নির্বাচনী অঙ্গীকার
নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে জেএসডি প্রার্থী নুরুল আমিন এই এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে একগুচ্ছ ‘মডেল টাউন’ গড়ার পরিকল্পনা পেশ করেছেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে ঢাকা-১৪ আসনকে একটি আধুনিক ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো। সাধারণ মানুষ যেন স্বাধীনভাবে এবং ভয়হীন পরিবেশে বাঁচতে পারে, সেটাই আমার মূল লক্ষ্য।”
তার প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো হলো:
১. চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি রোধ: এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহণ সেক্টরে জেঁকে বসা চাঁদাবাজি কঠোর হাতে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
২. মাদকমুক্ত সমাজ: মাদক ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে তরুণদের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
৩. তরুণদের কর্মসংস্থান ও খেলাধুলা: ভেঙে পড়া ক্রীড়া অবকাঠামো সংস্কার করে প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলাধুলার সুযোগ তৈরি এবং বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
৪. অসহায় মানুষের পাশে: নিম্নবিত্ত ও দিনমজুরদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে সবসময় পাশে থাকার অঙ্গীকার।
ভোটারদের প্রত্যাশা আসনটির সাধারণ ভোটাররা বলছেন, তারা এমন একজন প্রতিনিধি চান যিনি কেবল প্রতিশ্রুতি দেবেন না, বরং গাবতলী থেকে মিরপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই এলাকার দীর্ঘস্থায়ী যানজট এবং মাদকের প্রকোপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। আবাসিক এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নিরাপদ আবাসন ও উন্নত নাগরিক সুবিধার প্রত্যাশায় রয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে নুরুল আমিনের ‘তারা’ মার্কা সাধারণ মানুষের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।