1. alam9168@gmail.com : Jahangir Alam : Jahangir Alam
  2. mdsharif.hussain7@gmail.com : https://moderntvbd.com/ : https://moderntvbd.com/
  3. sharif.patwary2025@gmail.com : sumi islam : sumi islam
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন

যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক-৫৪ উত্তপ্ত মিয়ানমার- টেকনাফ সীমান্ত : গোলাগুলিতে হাজারো মানুষ আতঙ্কে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ Time View

 

বিশেষ সংবাদদাতা : দেশের কক্সবাজারের টেকনাফ থানার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯) গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি, ২০২৬) ভোরে টেকনাফ হোয়াইক্যংয়ে লম্বাবিল এলাকা এ ঘটনা ঘটেছে। আফনান লম্বাবিল এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে ও একই এলাকার হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে আরাকান আর্মির ব্যাপক গুলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকালে ৫৪ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে জনগণের সহায়তায় আটক করেছে যৌথ বাহিনী। তাদের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। এদের অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই মিয়ানমার- টেকনাফ সীমান্তে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এছাড়াও কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত উপজেলা নাফ নদীতে দিন দিন বেড়েই চলেছে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের দখলে থাকা আরাকান আর্মির স্বেচ্ছাচারিতা। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় জলসীমা পার হলেই ধরে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় জেলেদের। এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করেন অপহৃত জেলেদের পরিবার।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইনে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি (এএ) ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকা। দু’পক্ষের এই লড়াইয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি, ২০২৬) ভোরে টেকনাফ হোয়াইক্যংয়ে লম্বাবিল এলাকা এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার খবরে স্থানীয়রা কক্সবাজার- টেকনাফ প্রধান সড়কের লম্বাবিল এবং টেচ্ছা ব্রিজ এলাকায় অবরোধ করেন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তিন ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক করে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

অন্যদিকে মিয়ানমারের গোলাগুলির ফলে ভয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটছেন সীমান্তের মানুষ। পাশাপাশি মিয়ানমারে থেকে প্রাণে বাঁচতে গুলিবিদ্ধসহ দেশটির ৫৪ জন নাগরিক (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। তাদেরকে আটক করেছে বিজিবি। সীমান্তের ওপারে গোলাবর্ষণের শব্দে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় অনেক সীমান্তবাসী ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এলাকাবাসী, প্রশাসন ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, টানা তিন দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ চলছে। সেখানে আরাকান আর্মির সঙ্গে আরসা, আরএসও ও নবী হোসেন এবং মাহাজ গ্রুপের মধ্যে চলমান গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তেও। এতে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে ঘুরে দেখতে পান , নাফ নদের বিলাইছরি ও হাসরদ্বীপে ধোঁয়ার কুন্ডলী। স্থানীয়রা কক্সবাজার- টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে সেনাবাহিনী ও উখিয়া টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন এবং অবরোধ তুলে নেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, গত শনিবার রাত থেকে গতকাল রোববার সকাল পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্তে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। সকালের দিকে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় আরকান আর্মি। হামলায় টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা পিছু হটলে আরকান আর্মি তাদের তাড়া করে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বেড়িবাঁধ পর্যন্ত চলে আসে এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। আরাকান আর্মির ছোড়া গুলিতে লম্বাবিল এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খেলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে হুজাইফা সুলতানা আফনান নামের এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।

আহত শিশুর বাবা জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে হুজাইফা বাড়ির সামনে খেলছিল। হঠাৎ আরকান আর্মি বেড়িবাঁধের ওপর থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে আমার মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার কান বরাবর গুলি লাগে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে এমএসএফ হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত উপজেলা নাফ নদীতে দিন দিন বেড়েই চলেছে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের দখলে থাকা আরাকান আর্মির স্বেচ্ছাচারিতা। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় জলসীমা পার হলেই ধরে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় জেলেদের। এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করেন অপহৃত জেলেদের পরিবার।

অপহৃত জেলেদের পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমকে
জানান, নাফ নদী ও সাগরে জাল ফেললে স্রোত এবং বাতাসের কারণে সেটা দিক পরিবর্তন করে নেয় বলেই মাঝে মাঝে মিয়ানমার জলসীমা অতিক্রম করলে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। তবে আগে এমন অসহিষ্ণু না হলেও সম্প্রতি আরাকানা আর্মির কারণে অনিরাপদ হয়ে গেছে নাফ নদী। জেলে পরিবারগুলোর রোজগারের মাধ্যম আরাকান আর্মির হাতে বন্দি থাকায় শঙ্কা ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন অপহৃতদের স্বজনরা।

এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নাফ নদী ছিল উন্মুক্ত। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর মংডু শহরও দখল নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের ২৭২ কিলোমিটার সীমান্তের পুরোটাই দখল পায় আরাকান আর্মি। দখল নেওয়ার পর থেকে জেলেদের ওপর অমানবিক দস্যুতা শুরু করেছে তারা।

আয়নাম ও রমজান উদ্দিন নামে দুইজন বাসিন্দা সাংবাদিকদের বলেন, রোববার সকালে হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় বেড়িবাঁধে গেলে তিনি বেশ কিছু গুলি দেখতে পান। তখন ওপারে গোলাগুলি হচ্ছিল। এ সময় একটি গুলি এসে পড়ে তাঁর পায়ের কাছে মাটিতে।

এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা ছৈয়দ আলম বলেন, গত শনিবার রাত থেকে গতকাল রোববার সকাল পর্যন্ত আরসা ও আরাকান আর্মির মধ্যে প্রচুর গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে আরসার সদস্যরা আরাকান আর্মির তাড়া খেয়ে এ পারে চলে আসে। আমরা আতঙ্কে আছি।

স্থানীয় হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র সাংবাদিকদের জানান, আরসাসহ ৫৪ স্বশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হবে।

অপরদিকে হোয়াইক্যং সীমান্তের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীদের বলেন, টানা কয়েকদিন ধরে এই সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি ঘটনা চলছে। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু গোলাগুলি গতকাল রোববার ভোরে থেমেছে। এতে সীমান্তের মানুষের নির্ঘুমের পাশাপাশি আতঙ্কের মধ্য জীবন পার হচ্ছে। এ ছাড়া রোববারও মিয়ানমারে থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্য চরম ক্ষোভ দেখা গেছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি শিশু আহত হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তে কয়েকদিন ধরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় পরিস্থিতি থমথমে। সীমান্তের অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। আবার অনেকে গুলির ভয়ে পাকা ঘরে আশ্রয় নিচ্ছে।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাতভর গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। একপর্যায়ে মিয়ানমার দিক থেকে আসা গুলিতে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এছাড়া মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকালে আটক প্রায় অর্ধশতাধিক মিয়ানমার নাগরিক পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আরো জানান, গুলিবিদ্ধ শিশুটি মারা যায়নি। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম গণমাধ্যমকে বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করতে সতর্ক করা হচ্ছে।

এছাড়া উখিয়া-৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্তের ওপারে পরিস্থিতি এবং গোলাগুলির বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © moderntvbd.com
Theme Customization By Sky Host BD