রাজধানীর গুলশান কালাচাঁদপুর ছাপড়া মসজিদ এলাকায় জুয়া ও মাদকের আস্তানার অনুসন্ধানে গিয়ে একদল সাংবাদিক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। গত শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে যান পরিবেশ সংরক্ষণ ও সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আব্দুস সালাম, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার বি. এম. আশিক হাসান, জাগো কণ্ঠের প্রতিনিধি এইচ এম রকি, দৈনিক চলমান বিশ্ব পত্রিকার প্রতিনিধি আবু রায়হান, ৭১ বাংলাদেশ সংবাদের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম, দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. সোহেল রানা, দৈনিক স্বাধীন বাংলা পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হোসনে আরা হীরা, এবং দৈনিক সরজমিন বার্তার মোহাম্মদ আসিফ সহ মোট ১০ জন সাংবাদিক।
সাংবাদিকদের দাবি, অনুসন্ধান চলাকালীন হঠাৎ আতাউর রহমান (৪০), পিতা মৃত মফিজ উদ্দিন, নিজেকে বিএনপির কর্মী পরিচয়দানকারী ব্যক্তি, অজ্ঞাতনামা ১৮-২০ জন সন্ত্রাসীসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তিনি প্রথমে নিজেকে ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা ব্যক্তি’ দাবি করলেও, প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে আগেই উপস্থিত দেখতে পান। পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য আতাউর রহমান সাংবাদিকদের ‘ভুয়া ডিবি পুলিশ’ বলে অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন, যদিও সকল সাংবাদিক তাদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে রেখেছিলেন।
হামলার সময় নারী সাংবাদিক হোসনে আরা হীরা শ্লীলতাহানির শিকার হন। সাংবাদিক বি. এম. আশিক হাসানের আইডি কার্ড, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ (৫,৩০০ টাকা সহ), এবং এইচ এম রকির হাতে থাকা প্রায় ৩,৫০,০০০ টাকার সনি ভিডিও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা।
ঘটনার পর দৈনিক যুগান্তরের স্থানীয় প্রতিনিধি সোহাগ ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে সহযোগিতা চান। পরে গুলশান থানার এসআই রেজাউল ঘটনাস্থলে এসে আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসার পর মোবাইল ও আইডি কার্ড ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ছিনতাই হওয়া মানিব্যাগ ও ভিডিও ক্যামেরা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পরদিন ১৩ জুলাই গুলশান থানায় আব্দুস সালাম বাদী হয়ে আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে সাংবাদিকদের অভিযোগ, থানায় একাধিকবার গিয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ব্যর্থ হন। এমনকি একাধিকবার মোবাইলে কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আব্দুস সালাম বলেন, “আমরা রাতেই থানায় অভিযোগ দিই, তবে এরপর বারবার গিয়েও ওসির সাক্ষাৎ পাইনি। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাই, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”
এ বিষয়ে গুলশান থানার কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।