মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন খাল ও নদীতে প্রতিদিন গৃহস্থালি,বাজার ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নির্বিচারে। এসব বর্জ্য ভেসে সরাসরি সুন্দরবনের নদ-নদী ও খালে গিয়ে মিশছে। এতে মারাত্মক ভাবে ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জলজ প্রাণী ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,শ্যামনগর উপজেলার নওয়াঁবেকি,বুড়িগোয়ালিনী,মুন্সিগঞ্জ,গাবুরা ও রমজাননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে মানুষ খাল ও নদীতে আবর্জনা ফেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে বাজারঘাট,মাছ ও হাট-বাজারের প্লাস্টিক,পলিথিন,মাছের বর্জ্য ও নোংরা পানি জোয়ারের সঙ্গে ভেসে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে।
পরিবেশবিদদের মতে,এসব প্লাস্টিক ও বিষাক্ত বর্জ্য সুন্দরবনের নদীতে জমে জলজ প্রাণীর শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত করছে। এতে চিংড়ি,কাঁকড়া,মাছ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে বনাঞ্চলের পানির মানও দিন দিন নষ্ট হচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে সুন্দরবনের অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক।
স্থানীয় পরিবেশ কর্মী ইমাম হোসেন জানান, দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর না হলে ভবিষ্যতে সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্য ও পর্যটন উভয়ই মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তারা প্রশাসনের কাছে নদী ও খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বেসরকারি সংস্থা রূপান্তরের উপজেলা সমন্বয়কারী গোলাম কিবরিয়া বলেন,সুন্দরবনবর্তি এলাকা হতে যে ভাবে বর্জ্য ভাঁটার টানে সুন্দরবনের মধ্যে প্রবেশ করছে,তাতে করে সুন্দরবন ও জলজ প্রাণী হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত বর্জ্য ঠেকাতে না পারলে সুন্দরবনের জীব বৈচিত্রের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
ইয়ুথ ফর সুন্দরবন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আশিকুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ভাটার টানে সুন্দরবনের মধ্যে যে ভাবে বিভিন্ন বজ্য ভেসে যাওয়ায় বন্য প্রাণী হুমকির মুখে পড়বে,তিনি আরো বলেন, উপকূল এলাকা জুড়ে বেশ কিছু বজ্র ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে তাহলে বর্জ্য ফেলানো বন্ধ হবে সুন্দরবন লাগোয়া নদীতে।
জেলে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন,আমরা বিষয়টি অবগত আছি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে,সুন্দরবন রক্ষায় এখনই সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি-নইলে মানুষের অসচেতনতা এক দিন এই প্রাকৃতিক সম্পদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।