শাহীন মির্জা ;
উত্তরা প্রতিনিধি :উত্তরা পূর্ব থানার সিটি ক্লাবের উদ্যোগে টানা ৪০ দিন ফজর ও এশার নামাজ জামাতে আদায়কারী ২০০ শিশু–কিশোরকে বাইসাইকেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে উত্তরা ৪ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির ফুটবল মাঠে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কিশোরদের মাঝে দেখা যায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস, আর স্থানীয়রা এমন ধর্মীয়–সামাজিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
সিটি ক্লাবের সভাপতি জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপদেষ্টা মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- এশিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর ড.আবুল হাসান মো: সাদেক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি নুরুল ইসলাম, ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান, উত্তরা ৪ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা আলী, জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের সাবেক প্রধান পরিচালক এস এম মিজানুর রহমান,উত্তরা ৪ নং সেক্টর জামে মসজিদের সভাপতি জোয়ার্দার শাহরিয়ার কাশেম,বিশিষ্ট লেখক ও অনুবাদক আলী আহমেদ মাবরূর, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ঢাকা মহানগর উত্তরের মহাপরিচালক রেজাউল করিম শাকিল, সিটি ক্লাবের উপদেষ্টা মুহাম্মাদ জামালউদ্দিন, মাহবুবুল আলম মুকুল, সিটি ক্লাবের আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদ, সিটি ক্লাবের উপদেষ্টা আতিক হাসান রুবেল, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মুজাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।
বক্তারা শিশু–কিশোরদের মসজিদমুখী করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ভিসি প্রফেসর ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক বলেন, “আজকাল গান–নাচের প্রতিযোগিতা হয়, কিন্তু নামাজের প্রতিযোগিতা নেই। সিটি ক্লাবের এই আয়োজন সেই ঘাটতি পূরণ করেছে।” তিনি কোরআনের আয়াত “কু আনফুসাকুম ওয়া আহলিকুম নারো” উদ্ধৃত করে পরিবারকে আল্লাহর পথে পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথি ও ঢাকা–১৮ আসনের সংসদ প্রার্থী অধ্যক্ষ আশরাফুল হক বলেন, “নামাজের অর্থ জানা জরুরি। এভাবে জীবন গড়ে তুলতে পারলে দুনিয়ার সাইকেলের চেয়েও উত্তম পুরস্কার অপেক্ষা করছে আখিরাতে।” তিনি নারীদের জন্য মসজিদে আলাদা নামাজের ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে এ আয়োজনটি উত্তরায় ধর্মীয় অনুশাসন চর্চা, শিশু–কিশোরদের নৈতিক বিকাশ এবং মসজিদমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা এবং উপস্থিত অভিভাবকরা।