মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
সাতক্ষীরায় আবারও শুরু হয়েছে শীতের এক বিশেষ ঘ্রাণ খেজুরের রসের মৌসুম। শীত নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলার গাছিদের মধ্যে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। গ্রামের পর গ্রামে এখন চলছে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। অযত্নে পড়ে থাকা খেজুর গাছ গুলোও যেন আবার গুরুত্ব ফিরে পেয়েছে।
শীতের এই মৌসুম সাতক্ষীরার হাজারো পরিবারের জীবিকার উৎস। ক্ষেতের আইল,পুকুরপাড়,বাড়ির আঙিনা গ্রাম বাংলার এসব জায়গায় বেড়ে ওঠা দেশি খেজুর গাছ জেলার অর্থনীতিতে আশীর্বাদের মতো ভূমিকা রাখে। রস, গুড় আর পাটালি বিক্রি করে অনেক পরিবার বছরের অর্ধেক সময় চলে পুরো স্বাচ্ছন্দ্যে।
তবে, গাছিদের মনে আছে দুশ্চিন্তাও। দিন দিন কমে যাচ্ছে দেশি খেজুর গাছ। জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার তাগিদেবন বিভাগ নতুন গাছ লাগানোর উদ্যোগ খুব একটা নিতে না পারায় অনেক এলাকায় দেশি খেজুর গাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী রস পাওয়া যাবে কি না এ নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে রস সংগ্রহকারীদের।
এক সময় খেজুর রস আর গুড় ছিল সাতক্ষীরার অন্যতম পরিচয়। গ্রামের শীত সন্ধ্যায় যে টাটকা রসের ঘ্রাণ ভেসে বেড়াত,আজ তা অনেকটাই বিরল।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ইউছুপ আলী ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গাছি। তিনি বলেন, শীতকালে শহর থেকে মানুষ দলে দলে আসত রস খেতে। সন্ধ্যায় গ্রাম জুড়ে যে উৎসবের আবহ তৈরি হতো এখন আর তা দেখা যায় না।
একই এলাকার পলাশ বিশ্বাস জানান,এবার তিনি ৮০টি খেজুর গাছ তুলেছেন। রস,গুড় আর পাটালি বিক্রি করে পরিবারের পাঁচ-ছয় মাসের খরচ উঠে যাবে। শুধু তাই নয়,গাছ কাটার পর পাওয়া খেজুর পাতা দিয়ে পাটি তৈরি করে তিনি বাড়তি আয়ও করেন।
দেবহাটার গাছি আশরাফুল গাজীর কণ্ঠেও উদ্বেগ। তিনি বলেন, যে গতিতে খেজুর গাছ কমছে,এক সময় হয়তো আমাদের এলাকায় আর খেজুর গাছই থাকবে না। সবাইকে এখন থেকে গাছ লাগানোয় মনোযোগী হতে হবে।
খেজুর রস সংগ্রহ পুরোপুরি একটি দক্ষতার কাজ। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, রসের জন্য সাধারণত গাছের পূর্ব ও পশ্চিম দিক কাটা হয়, যাতে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে এবং রস সহজে নামে। নরম অংশে চাঁছ দিয়ে কলস বেঁধে দিলে একবার কাটায় দুই-তিন দিন পর্যন্ত রস পাওয়া যায়।
তিনি জানান,মাঠ পর্যায়ে গাছিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কী ভাবে ভালো মানের লালি ও গুড় তৈরি করা যায়। তার মতে,সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বেশি বেশি খেজুর গাছ লাগানো হলে এই ঐতিহ্যকে আবারও বাঁচিয়ে রাখা