মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
এক সময় সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা ছিল মাদুর শিল্পের অন্য তম বড় বাণিজ্য কেন্দ্র। এখানকার ‘মেলে’ ঘাস দিয়ে তৈরি মাদুরের খ্যাতি ছিল দেশ জুড়ে। কিন্তু কাঁচা মালের চড়া দাম,প্লাস্টিক পণ্যের বাজার দখল এবং সরকারি পৃষ্ঠ পোষকতার অভাবে এখন বিলীন হওয়ার পথে শত বছরের এই ঐতিহ্য।
উপজেলার খলিষখালি, দলুয়া, গাছা, মাগুরা ও খেরসা ইউনিয়নের শত শত পরিবার এক সময় এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করত। গ্রাম গুলোর আঙিনায় নারী-পুরুষ মিলে মেলে শুকানো আর মাদুর বোনার যে কর্মযজ্ঞ চলত,তা এখন অনেকটাই ম্লান।
স্থানীয় কারিগরদের মতে, মেলে চাষের জমি কমে যাওয়া এবং কাঁচামালের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। গাছা গ্রামের পরিতোষ সরকার ও বাগডাঙ্গার নারায়ণ মন্ডল জানান, আগে দিনে ৩-৪টি মাদুর বুনে যে লাভ হতো, এখন তার অর্ধেকও হয় না। বাজারে বর্তমানে একটি মাদুর ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তৈরির খরচ ও পরিশ্রমের তুলনায় অতি সামান্য। ফলে অভাবের তাড়নায় কারিগরেরা বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে ঝুঁকছেন।
মাদরা গ্রামের তারাজান বিবি বলেন,মেলে চিরে রোদে শুকিয়ে মাদুর তৈরির উপযোগী করতে অনেক পরিশ্রম। কিন্তু বাজারে এখন প্লাস্টিকের মাদুরের দাপট। আমাদের হাতের কাজের কদর আগের মতো নেই।
শিল্পীদের অভিযোগ,আগে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়া যেত,যা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। সঠিক বাজার জাতকরণ এবং প্রশিক্ষণের অভাবে আধুনিক চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না প্রান্তিক কারিগরেরা। পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ জহুরুল হক মনে করেন,দক্ষ কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করলে এই শিল্পে আবারও প্রাণ ফিরবে। এতে বেকারত্ব দূর হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
এ বিষয়ে তালা উপজেলার নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন,আমি এই এলাকায় নতুন যোগদান করেছি। ঐতিহ্যবাহী এই মাদুর শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং কারিগরদের সমস্যা সমাধানে সরকারি ভাবে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।
বিশেষজ্ঞদের মতে,পরিবেশবান্ধব এই পণ্যটিকে বাঁচাতে প্রতি বছর মাদুর মেলার আয়োজন এবং সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।