রবিউল আলম রাজু :
বাংলাদেশজুড়ে স্যালিন্ডার গ্যাসের বাজারে চলছে ভয়াবহ নৈরাজ্য ও কারচুপি। সরকার নির্ধারিত যেখানে ১২ কেজির এলপিজি গ্যাসের মূল্য ১ হাজার ১৫০ টাকা, সেখানে তা বিক্রি করা হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। এতে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছে। অনেক জায়গায় নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস চাইলে বিক্রেতারা সোজাসাপটা জানিয়ে দিচ্ছেন—“নিতে হলে এই দামেই নিতে হবে, না হলে নেই।”
বিশেষ করে শহরের বস্তি, গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় এই কারচুপি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিনমজুর, রিকশাচালক, হোটেল মালিক ও সাধারণ গৃহস্থ পরিবারগুলো রান্না করা নিয়েই দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
একজন ভুক্তভোগী গৃহিণী বলেন,
“আগে কষ্ট করে হলেও গ্যাস কিনতাম, এখন ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে গ্যাস কেনা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। চুলা জ্বালাবো কীভাবে?”
অন্যদিকে হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনে ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে, ফলে বাড়ছে খাবারের দাম, যার চাপ গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই প্রকাশ্য লুটপাটের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো অভিযান চোখে পড়ছে না। প্রশাসনের নীরবতায় প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত তদারকি ও বাজার মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত না করলে এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার নেবে।
এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে স্যালিন্ডার গ্যাস সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে—এটাই বাস্তবতা।