মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
মাঘের আগেই বাঘ কাঁপানো শীতের দেখা মিলেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায়। গত তিন দিন ধরে দেখা নেই সূর্যের। চারদিকে ধোঁয়াটে কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের দাপটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। হাড়কাঁপানো এই ঠান্ডায় প্রাণিকুলও যেন আজ দিশেহারা। শীতের প্রকোপে জবুথুবু সাতক্ষীরায় সবচেয়ে বিপন্ন হয়ে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ। এই তাপমাত্রা ছিল ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়,সাতক্ষীরা শহরের ব্যস্ত রাস্তাঘাট ও বাজার গুলো বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনশূন্য হয়ে পড়ছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছেন না। তবে পেটের তাগিদে বাধ্য হয়েই হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে কাজে বের হতে হয়েছে দিন মজুর ও প্রান্তিক কৃষকদের। কারো শরীরে ছেঁড়া চাদর, কেউবা সামান্য পাতলা কাপড়ে জবুথুবু হয়ে বসে আছেন মোড়ে মোড়ে। শহরের রেললাইন বা বস্তি এলাকায় দেখা গেছে আরও করুণ দৃশ্য একটু করো খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের উত্তাপে শীত নিবারণের আপ্রাণ চেষ্টা করছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তীব্র এই শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও। ঘরে ঘরে বাড়ছে সর্দি-কাশি ও শীত জনিত ব্যাধি। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা.সামছুর রহমান বলেন,তীব্র শীতে শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। হাত-পায়ে মোজা সহ শরীর গরম কাপড়ে ঢেকে রাখা জরুরি। কোনো ভাবেই বাসি খাবার খাওয়ানো যাবে না এবং বিশুদ্ধ পানির বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। একই সতর্কতা প্রযোজ্য বয়স্কদের ক্ষেত্রেও।
প্রশাসন ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা মাঝে মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়া এই জনপদে এখন একটাই প্রার্থনা কখন নামবে রোদের ঝিলিক, কখন একটু উষ্ণতা পাবে হাড়জিরজিরে শরীরের মানুষ গুলো।