মনির হোসেন জীবন : রাজধানীতে পৃথক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পাঁচ চীনা নাগরিকসহ টেলিগ্রাম প্রতারক চক্রের আট সদস্য গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবি পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন-
চেন লিং ফেং (Chen Ling Feng), জেং কং (Zeng Cong), জেং চাংকিয়াং (Zeng Changqiang), ওয়েন জিয়ান কিউ (Wen Xian Qiu), হুয়াং ঝেং জিয়াং(Huang Zheng Xiang), মোঃ জাকারিয়া (২৬), নিয়াজ মাসুম (২০) ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয় (৩৮)।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইনে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন অপারেটরের ৫১,২৫১ (একান্ন হাজার দুইশত একান্ন)টি সিম, ৫১ (একান্ন) টি মোবাইল ফোন, ২১ (একুশ) টি ভিওআইপি গেটওয়ে সামগ্রী, ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন অপারেটরের সর্বমোট ৫১ হাজার ৬৭টি সিম, চারটি মোবাইল ফোন, দুইটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ উদ্ধারমূলে করা হয়েছে।
রাজধানীর বসুন্ধরা ও উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) আলাদা দু’টি অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি, ২০২৬) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি সাইবার উত্তরের উপ-পুলিশ (ডিসি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার
এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, গ্রেফতারকৃত প্রতারকরা কখনো চাকরি দেওয়ার নামে, কখনো ভালো মুনাফায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বা কখনো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সস্তায় সরবরাহের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতো।
তিনি আরো বলেন, ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম অনলাইনে জব সংক্রান্ত প্রতারণা, টেলিগ্রাম গ্রুপের প্রতারণাসহ বিভিন্ন প্রতারণা সংক্রান্তে ডিএমপি, ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টার ও ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে রাজধানীতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়। এই প্রতারক চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।
হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার সাংবাদিকদের জানান, অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে অনলাইনে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ৬৭টি সিম, চারটি মোবাইল ফোন, দু’টি সিপিইউ ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মামলাটির নিবিড় তদন্তে জানা যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের আরও অনলাইন প্রতারক চক্র রয়েছে। গতকাল সোমবার ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার ৯ নম্বর সেক্টর থেকে পাঁচ জন বিদেশি নাগরিকসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৭টি মোবাইল, বিভিন্ন অপারেটরের আরও ১৮৪ টি সিম ও পাঁচটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের উত্তরে হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার (তিনি) বলেন, অনেকেই বুঝে না বুঝে নিজের অ্যাকাউন্ট অন্যকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের আইনি জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। অপরিচিত কারো সঙ্গে বিকাশে অ্যাকাউন্টে কোনোভাবে কোনো লেনদেন না করার অনুরোধ জানিয়ে ডিবির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, অপরিচিত কারো সঙ্গে বিকাশে লেনদেন বা অন্য কারো অ্যাকাউন্টেও লেনদেন করা যাবে না।
বায়োমেট্রিক বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও এতগুলো সিম কীভাবে কালেক্ট করা হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কিংবা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমরা আশ্চর্য হয়েছি। সবগুলো সিম রেজিস্ট্রার্ড কি না বা কার মাধ্যমে এতগুলা সিম এসেছে তা তদন্তের মধ্যে সবকিছু স্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসবে